বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পাঁচ লাখেরও অধিক পরিবারে কি ঈদের আনন্দ আসবে না?

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন ঈদুল ফিতরের ঈদ উপলক্ষ্যে সরকারি চাকুরিজীবিদের ঈদের বোনাস ও চলতি মে মাসের বেতন সহ যাবতীয় ভাতাদি পরিশোধ করলেও বেসরকারি শিক্ষকদের বেলায় কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় ঈদ আনন্দ থেকে বন্চিত হওয়ার আশংকায় প্রায় পাঁচ লাখেরও অধিক পরিবারে।

একটি বেসরকারি মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক জোহা সুজন ফেসবুকে এক আবেগঘন স্টাটাস দিয়েছেন। পাঠকের সুবিধার্থে স্টাটাসটি হুবহু নিম্নে তুলে ধরা হলো-

“ডিজিটাল দেশে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ঈদ আনন্দ কিসে?
জোহা সুজনঃ
বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারী নামের একধরনের জীব আছে বাংলাদেশে। যাদের সংখ্যাটা প্রায় পাঁচ লাখ। এরা সরকারকে শিক্ষা খাতে সাফল্য অর্জনে সহায়তা করে। এর জন্য সরকার তাদের এমপিও (যেটাকে ধরে নেয়া হয় বেতন-ভাতা) প্রদান করে। এই এমপিও বা বেতন শিক্ষকরা প্রত্যেক মাসেই পান ঠিকই। তবে মাসের শুরুতে নয়। মাসের মাঝামাঝি কিংবা মাসের শেষের অংশে। বছর জুড়েই মাসের মাঝামাঝি কিংবা শেষের দিকে বেতন পেলেও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা তৃপ্তির ঢেকুর তুলে সরকারের সাফল্য অর্জনে কাজ করে যান। এতে তাদের তেমন মন কষ্ট হয় না। তবে দুই ঈদে যখন পরিবার পরিজনের জন্য কিছু করতে পারেন না তখন তারা ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে দেখেন প্রতিবেশি সরকারি অফিসের পিয়নের ঈদ কেনাকাটা। সবাই যখন ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা শেষ করে বেসরকারি শিক্ষক তখন তীর্থের কাকের মতো চেয়ে থাকে বেতনের চেক ও বোনাসের (বেতনের ২৫ শতাংশ) চেক ছাড় হয়েছে কিনা তার জন্য। শিক্ষার সাথে জড়িত কর্মকর্তার যখন বেতন বোনাসের টাকা তুলে দেশের বাইরে গিয়ে শপিংয়ের কাজটা সেরে ফেলেন, তখন বেসরকারি শিক্ষকরা আল্লাহ আল্লাহ শুরু করেন। অন্তত বেতন বোনাসের টাকাটা যেন ঈদের দুই দিন আগে হাতে পান। টাকাটা হাতে পেলে পছন্দ-অপছন্দের বাছ-বিচার না করে কোন রকমে পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করতে পারাটাই হয়ে যায় তাদের একমাত্র কামনা। অনেক ক্ষেত্রে সেটিও সম্ভব হয় না। কর্তৃপক্ষের ” অতি দায়িত্বশীল ” আচরণে এমন সময় বেতন বোনাসের টাকা হাতে পান যখন আর পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনা কাটা করার মতো সময় থাকেনা। পাশাপাশি বাজারে থেকে ফুড়িয়ে যায় মানসম্মত জিসিনপত্র। এর পরেও পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটানের জন্য কেনাকাটা করতে চাইলে চড়া দামে নিম্নমানের পোশাক পরিচ্ছদ কিনতে হয়। নচেত বেতন বোনাসের টাকার ঘ্রাণ শুকেই ঈদ আনন্দ উদযাপন করতে হয়। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের আবার ভবিষ্যত সঞ্চয়ের ব্যাপারে বেশ অনীহা। তাই তাদের সঞ্চয়ে মনযোগী করতে অনেক সময় তাদের বেতন বোনাস ঈদের পরেও দেয়া হয়। যাতে কেনাকাটা করে টাকা নষ্ট না করে তারা সঞ্চয় করতে পারে। পাঁচ লাখ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী সঞ্চয় করলে সেই সঞ্চিত অর্থ দেশের উন্নয়নে মোটা অংকের মূলধন হিসাবে ব্যবহৃত হবে।ডিজিটাল এই যুগে দুই মিনিটের চেয়ে কম সময়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র প্রেরণ করা যায়। অথচ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বোনাস প্রদান সংক্রান্ত আদেশ/কাগজপত্র ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছাতে দশ/পনের দিন সময় লাগে। তাহলে কি বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা পৃথিবীর থেকে বড় কোথাও বাস করছে? দেশ কি সত্যি ডিজিটাল হয়েছে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *