ধর্ষককে বাঁচাতে ও জরিমানার টাকা আত্মসাৎ করতে স্কুলছাত্রীকে গ্রামছাড়া

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ধর্ষক রাম প্রশান্তকে বাঁচাতে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। এর আগে ধর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় সালিশে উভয় পক্ষকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, জরিমানার ওই টাকা আত্মসাৎ করতেই ঘটনার শিকার ঐ স্কুলছাত্রীকে কৌশলে উলটো দোষারোপ করে গ্রামছাড়া করেছেন পারখী ইউপি সদস্য কুদ্দুস আলী ও ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি খসরু মিয়া।

ঘটনা সুত্রে জানা গেছে, ধর্ষক রাম প্রশান্ত প্রভাবশালী। সে পূর্ববাসিন্দা গ্রামের হতদরিদ্র স্কুলছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে মেয়েটির ফুপাতো বোনের ঘরে ধর্ষণ করে। এতে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ফুপাতো বোন ওই স্কুলছাত্রীর গর্ভপাত করতে কৌশলে ওষুধ খাওয়ায়।

বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ২ মে রাতে ইউপি সদস্য কুদ্দুস আলীর সভাপতিত্বে সাদেকের বাড়িতে সালিশ হয়। সালিশে ইউপি সদস্যের ছেলে সাইফুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ নেতা খসরু মিয়া ধর্ষক রাম প্রশান্তকে আড়াই লাখ ও বাচ্চা নষ্ট করার দায়ে মেয়েটিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে। তারা মেয়েটিকে গ্রামছাড়া করে অন্যত্র রাখার সিদ্ধান্ত দেয়। সাইফুল ও খসরু মেয়েটির পরিবারকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে চাপ দেয়। নইলে জরিমানার টাকা দেয়া হবে না বলে হুমকি দেয়া হয়।

তবে টাকা আত্মসাতের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য কুদ্দুস, তার ছেলে সাইফুল ও খসরু মিয়া । তাদের বক্তব্য, চেয়ারম্যানের নির্দেশে সালিশ করেছি।

এসময় তারা সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন স্থানীয় সাংবাদিকদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, পারখী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিয়াকত তালুকদার জানান, টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জানা নেই। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান কালিহাতী থানার ওসি নজরুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *