ভুরুঙ্গামারীতে সকালে কুয়াশা আর সারা দিন প্রচন্ড তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন, বেড়েছে রোগ বালাই

মোঃ মনিরুজ্জামান কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে মৌসুমী আবহাওয়ার বৈপরিত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে । ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে ভুরুঙ্গামারীর আকাশ । আর তাপমাত্রা থাকছে ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রী । অপর দিকে ভোরের আলো ফোটার পর থেকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রচন্ড গরম ও তীব্র তাপদাহে অতীষ্ঠ হয়ে পড়ছে জনজীবন। ভুরুঙ্গামারীতে  গত তিন দিনের গড় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রী । আগামি দুই তিন দিনেও তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নাই বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে। এদিকে তীব্র তাপদাহের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের লোড শেডিং । ক্ষণে ক্ষণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঘরের ফ্যান ও বাতিগুলো । বর্তমানে ঝড় বৃষ্টির মৌসুমে আকাশে মেঘের আবহ সৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুতের লাইন । গত কয়েক দিনের আগুন মুখো আবহাওয়ার কারণে নাকাল হয়ে পড়েছে ভুরুঙ্গামারীর জন জীবন । দুঃসহ গরমে হাঁস- ফাঁস করছে প্রাণ। ঘরে বাইরে কোথাও স্বস্তি মিলছে না । বিপাকে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। বিশেষ করে  মাঠে – ঘাটে কাজ করা শ্রমজিবী মানুষের কষ্টটা সবচেয়ে বেশি। ফলে মৌসুমি রোগ বালাই বেড়েছে । সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নিলুফা ইয়াছমিন তার দুটি সন্তান আব্দুল্লাহ(৫) ও নোমান (২) কে নিয়ে এসেছেন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে । কি সমস্যা ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- রাতে প্রচন্ড গরমের কারণে ফ্যানের বাতাশ দিয়ে বাচ্চাদেক ঘুম পাড়াতে হচ্ছে ।অপর দিকে ভোর রাতে কুয়াশা পড়ার কারণে শীত ও ঠান্ডা লাগতেছে ।ফলে সর্দি,জ্বর,  কাশি সব সময় লেগে থাকছে ।তাই  চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এসেছি। ভুরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক

ডাঃ মোঃ হাসানুজ্জামান জানান- বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। আগে প্রতি মাসে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী ভর্তি হতো ।কিন্তু এখন তা ৫০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভিতরে কোন বেড ফাঁকা নেই । এমন কি বারান্দাতেও জায়গা হচ্ছে না ।

জানতে চাইলে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ এ এস এম  সায়েম জানান –

আবহাওয়ার পরিবর্তন ও তীব্র গরমের কারণে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে । হাসপাতালে ডায়রিয়া,জ্বর, সর্দি কাশি, এজমা ও উচ্চ রক্ত চাপে আক্রান্ত সহ বিভিন্ন উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। যার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *