ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার জেলজীবন, সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এক বছরেরও বেশি সময় কারাগারে রয়েছেন। এবার তার সেই কারাজীবন নিয়ে পেনসিলের আঁকা বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যম বেনার নিউজ।

চীনের খ্যাতিমান শিল্পী ওয়াং লিমিং এ স্কেচগুলো করেছেন। তিনি ‘রেবেল পিপার’ নামে বেশি পরিচিত। বুধবার এসব স্কেচ প্রকাশ করে ‘ব্যানার নিউজ’। রেডিও ফ্রি এশিয়ার রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট হিসাবে সুনাম কুড়িয়েছেন ওয়াং লিমিং।

খালেদা জিয়ার ছবিগুলো আঁকতে তাকে ঢাকা থেকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন কামরান রেজা চৌধুরী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা ও কারাকর্তৃপক্ষের বর্ণনায় খালেদা জিয়ার কারাজীবন দৃশ্যমান করা হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তাতে বাধা দিয়েছেন। কারাগারে যাওয়ার পর ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার কোনো আলোকচিত্র কিংবা ছবি প্রকাশ করা হয়নি।

শারীরিক দুর্বলতার জন্য মাঝে মাঝে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নিজের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন খালেদা জিয়া।

স্কেচগুলোতে সংযুক্ত তথ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়াকে রাখা হয়েছে ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। ২০১৬ সালে সব বন্দীকে স্থানান্তরের পর ২২৮ বছরের পুরোনো এই কারাগারে খালেদা জিয়াই একমাত্র বন্দী। পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের দোতলায় খালেদা জিয়ার কক্ষ।

খালেদা জিয়ার ঘরটি দৈর্ঘ্যে ১০ ও প্রস্থে ৮ ফুট। ঘরে খালেদা জিয়ার জন্য একটি টেলিভিশনও রয়েছে। যাতে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) দেখতে পারেন। খালেদা জিয়ার বিছানাটি দৈর্ঘ্যে ছয় ও প্রস্থে ছয় ফুট। ঘরটিতে দুটি চেয়ার, একটি টেবিলসহ, টুথব্রাশ, সাবান, পেস্ট ইত্যাদি ব্যক্তিগত জিনিস রয়েছে।

স্কেচের ক্যাপশনে আরো বলা হয়, জেলখানায় খালেদা জিয়ার কক্ষের পরিবেশ সম্পর্কে গত বছর ১৭ জুন ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ঘরে বড় বড় ইঁদুর। আপনারা শুনলে অবাক হবেন, তার ঘরে এক রাতে বিড়াল বড় ইঁদুর ধরেছে। তারপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’

তবে স্কেচের ক্যাপশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বরাত দিয়ে বলা হয়, একজন সুবিধাপ্রাপ্ত কয়েদি হিসেবে জেলখানায় খালেদা জিয়ার ঘরটি খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। সব সময় জেল কর্তৃপক্ষ তার খেয়াল রাখেন।

‘আদালতে হাজিরা না থাকলে খালেদা জিয়া সাধারণত দুপুর পৌনে দুইটা থেকে দুইটার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠেন। তিনি ঘুম থেকে উঠে সাধারণত স্যুপ খান।’

কারা কর্মকর্তারা ব্যানার নিউজকে জানান, খালেদা জিয়া ফল ও জুস পছন্দ করেন। তিনি নিজের পছন্দের একটি পত্রিকা পান। তিনি সাধারণত পেঁপে জুস এবং অন্যান্য ফল খান। তাকে কারাগার থেকে সরবরাহ করা খাবারই খেতে হয়।

ব্যানার নিউজ কারাগারে খালেদা জিয়ার বিচারে আদালত স্থাপন এবং বর্তমানে তার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন থাকার তথ্যও উল্লেখ করে।

একটি স্কেচে খালেদা জিয়ার সহকারী ফাতেমাকেও দেখা যায়।

এদিকে এই ছবি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমত চলছে সমালোচনা, মন্তব্য, বিশ্লেষণ। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে এ নিয়ে চলছে পাল্টাপাল্টি তর্ক-বিতর্ক।

ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি প্রসঙ্গে ফেসবুক ব্যবহারকারী হাসিব হোসাইন লিখেছেন, ‘‘বেদনাদায়ক ছবি। বুকের ভিতর থেকে কষ্টে চোখে পানি এসে পড়লো। মহান আল্লাহ কাছে প্রার্থনা করি যাতে প্রিয় নেত্রীকে মুক্তি পাওয়ার ফয়সালা করে দেন।’’

আক্ষেপের সাথে রাহুল আমিন লিখেছেন, ‘‘আমাদের দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি হয় বলেই দেশের এই অবস্থা, তা না হলে দেশের আরোও অনেক উন্নতি হতো, দেশে হাজার কোটি টাকা চুরের বিচার হয় না, কিন্তু তিন বারের জনগণের ভোটের প্রধানমন্ত্রী সে নাকি এতিমের টাকা মেরে খাবে, এটাও বিশ্বাস করতে হয়!!!’’

আওয়ামী লীগ সমর্থক বিলাল হুসাইন কুরাইশ লিখেছেন, ‘‘চিন্তা করছি খালেদা জিয়া এত সুবিধা নিয়েও জেলে থাকতে পারছে না সাধারণ কয়েদিদের তাহলে কি অবস্থা হয়। এই দেশে নাকি সবার সমান অধিকার আইন নাকি সবার জন্য সমান।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *