টাঙ্গাইলে ধর্ষণের শিকার পাকিস্তানি কিশোরী

৫ মাস আগে ৬ মাসের ভিসা নিয়ে প্রায় দীর্ঘ ২৫ বছর পর মায়ের সঙ্গে বাবার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন ১৭ বছর বয়সের ৯ম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী। বাবার গ্রামের বাড়িতে বেশ ভালই কাটছিল আনন্দে উৎসবে। গ্রামের আলো-বাতাস গ্রাম্যঞ্চলের পরিবেশেও শারমিন (ছদ্মনাম) মুগ্ধ হয়েছিল। কিন্তু বাড়িতে পা রাখার পরপরই কিশোরীর মায়ের ভাসুর আবুল হোসেনের পুত্র আল-আমিনের কুনজর পড়ে যায় ওই কিশোরীর উপর। সে থেকে শুরু হয় আল-আমিনের লোভ-লালসা।

দিন যতই বাড়তে থাকে কিশোরীকে নানা সময়ে উত্যক্ত, কুপ্রস্তাব, ইভটিজিং ও শ্লীলতাহানির ব্যর্থ চেষ্টা করতে থাকেন। কিশোরী বাংলা ভাষা না বুঝায় আরো বেশী বিরক্ত করেন আল-আমিন। কিশোরীর মা বিষয়টি বুঝতে পেরে কিছুদিন তারা নিজেরা পারিবারিকভাবে মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও ওই বখাটে তা কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি।

তারপর ৬ মাসের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কিশোরীর মা ও তার মেয়ে নিয়ে পাকিস্তান চলে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন। এ খবরটি জানতে পায় আল-আমিন। তারপর ক্ষুদ্ধ হয়ে গত (১৭ এপ্রিল) গভীর রাতে একদল সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় কিশোরীকে কৌশলে তার কাকার বাড়ি থেকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর জামালপুরেরর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিকার ধর্ষণ করে স্কুল ছাত্রী ওই কিশোরীকে।

জানা যায়, ওই কিশোরীর গ্রামের বাড়ি অর্থাৎ তার মায়ের স্বামীর বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার উত্তর গোপালপুর উপজেলায় বাসিন্দা। তারা পাকিস্তানের নিউ করাচির সুপার হাইওয়েজ রোডের নাগরিক।

গোপালপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত (১৭ এপ্রিল) আল-আমিনসহ তিনজনকে আসামী করে কিশোরীর মা গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। পরে থানা পুলিশ গোপন সুত্রে খবর পেয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর রাতে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার মহিষাকান্দি মোড়ের এক বাসা থেকে বন্দীবস্থায় ধর্ষিতা কিশোরীকে উদ্ধার করেন পুলিশ।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোপালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল-মামুন জানান, উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর আনুমানিক পঁচিশ বছর আগে পাকিস্তানের নিউ করাচীতে গিয়ে নিহত হন।

সেখানে পাকিস্তানী নাগরিক বিয়ে করে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করেন। পাঁচ মাস আগে পাকিস্তানি নাগরিক ৬ মাসের ভিসায় কন্যাকে সাথে নিয়ে স্বামীর বাড়ি বেড়াতে আসেন। উঠেন উত্তর গোপালপুর গ্রামের ভাসুর আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িতে। সেখানে উঠার পর থেকেই আরেক ভাসুর আবুল হোসেনের পুত্র বখাটে আল-আমিন ওই কিশোরীকে উত্যক্ত করতে থাকে। বেশ কবার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পারিবারীকভাবে বিষয়টি ফয়সালার চেষ্টা হয়।

ধর্ষিতার মা জানান, তার মেয়ে নিউ করাচীর সরকারি সাদিকাটুল হাইস্কুলে ৯ম শ্রেণিতে পড়ে। তিনি ও তার মেয়ে বাংলা ঠিক মতো বলতে পারেন না। বাবার দেশ শখ করে দেখতে এসে নিজের পরিজনের হাতেই সর্বনাশের শিকার হলো তার কিশোরী কন্যা। নির্যাতনে মেয়েটি নিয়ে আতংকে ও মুষড়ে পড়েছেন বলে জানান। তিনি এর কঠিন শাস্তি দাবি করেন।

গোপালপুর থানা তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই আসলাম উদ্দিন জানান, ধর্ষিতা কিশোরীকে উদ্ধার করে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করে তার মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এদিকে ধর্ষিতা বাংলা বলতে না পারায় এবং দো-ভাষী না পাওয়ায় বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) আদালতে ধর্ষিতার ২২ ধারায় জবানবন্দী নেওয়া যায়নি। আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *