ভয়ে দেশে ফিরছেন না ইরানের নারী বক্সার

ইরানের বাধ্যতামূলক পোশাক না পরে বক্সিংয়ে অংশ নেওয়ায় গ্রেপ্তার হতে পারেন এমন খবরে দেশে ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইরানের এক নারী বক্সার।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, সাদাফ খাদেম নামে ওই নারী বক্সার ফ্রান্সে একটি অফিসিয়াল বক্সিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। গত শনিবার এক অপেশাদার প্রতিযোগিতায় ফরাসি বক্সার এনি চৌভিনকে হারান তিনি।

চলতি সপ্তাহেই ওই নারী বক্সার তার প্রশিক্ষকের সঙ্গে তেহরানে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন।

একটি ক্রীড়া সংবাদপত্রের খবরের সূত্রের বরাত দিয়ে সাদাফ খাদেম জানান, তার ধারণা ভেস্ট ও শর্টস পরে বক্সিংয়ে অংশ নিয়ে তিনি ইরানের পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।

অবশ্য ইরান কর্তৃপক্ষ সাদাফের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দেশে ফিরলে খাদেমকে গ্রেপ্তার করা হবে এ বিষয়টি নাকোচ করেছেন ইরান বক্সিং ফেডারেশনের প্রধান হোসেন সুরি।

তিনি বলেন, ‘মিজ. খাদেম ইরানের বক্সিংয়ের জন্যে আয়োজিত অ্যাথলেটদের সদস্য নন। এ ছাড়া বক্সিং ফেডারেশনের দৃষ্টিকোণ থেকে তার সমস্ত কার্যকলাপ ব্যক্তিগত।’

শনিবারের প্রতিযোগিতায় খাদেমের পরনে ইরানের জাতীয় পতাকার রঙয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ছিল সবুজ ভেস্ট ও লাল শর্টস এবং সাদা কোমরবন্ধ।

ফ্রান্সের শহর রয়ানে ওই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। নিজ দেশের ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের সমর্থন না থাকার পরও দেশের বাইরে প্রতিযোগিতায় আসা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জেরই ছিল ২৪ বছর বয়সী এই বক্সারের জন্যে।

খাদেম আশা করেছিলেন, যখন দেশে ফিরবেন তখন বীরোচিত সংবর্ধনা পাবেন। কিন্তু প্যারিসের শার্ল দ্য গ্যল বিমানবন্দরে গিয়ে তিনি জানান, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। খাদেমের সঙ্গে ছিলেন তার প্রশিক্ষক মাহয়ার মনসুর, যিনি ইরানে জন্মগ্রহণকারী বিশ্ব বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন চ্যাম্পিয়ন এবং ফরাসি ক্রীড়া মন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা।

একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাদাফ খাদেম বলেন, ‘ফ্রান্সে আমি একটি অনুমোদিত প্রতিযোগিতাতেই অংশ নেই। কিন্তু আমার পরনে ছিল ছোট প্যান্ট এবং টি-শার্ট, যা কিনা পুরো বিশ্বের চোখে স্বাভাবিক হলেও আমার নিজের দেশের নিয়মকে সেটি অসন্তুষ্ট করেছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো হিজাব পরিনি, একজন পুরুষ আমাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন- কেউ কেউ এটি ভালো চোখে দেখেনি।’

প্যারিসে ইরানের দূতাবাসের মুখপাত্র খাদেমের ইরানে না ফেরার সিদ্ধান্ত বা তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের কাছে।

ইরানের আইন অনুযায়ী ৯ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীকে যদি জনসম্মুখে মাথা আবৃত কোনো কাপড় ছাড়া দেখা যায়, তবে ১০ দিন থেকে দুই মাসের জেল বা জরিমানার শাস্তি বিধান রয়েছে।

দেশটির নারী খেলোয়াড়দের চুল, ঘাড়, বাহু এবং পা পুরোপুরি ঢেকে রাখার নিয়ম রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ের আগে পর্যন্ত, খাদেম অফিসিয়াল বক্সিং ম্যাচে হিজাব এবং পুরো শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক ছাড়া অংশ নেওয়ার অনুমতিই পেতেন না। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে আন্তর্জাতিক বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের অপেশাদার বক্সিংয়ের গভর্নিং বডি এই পোশাকের নিয়ম শিথিল করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *