সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী গুরুতর অসুস্থ হয়ে লাইফ সাপোর্টে

একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী গুরুতর অসুস্থ। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। রোববার রাতে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে আনার পর সুবীর নন্দীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। সেখানেই লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন এ শিল্পী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে  প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ৭২ ঘণ্টার আগে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।

সুবীর নন্দী সিএমএইচে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. তৌফিক এলাহির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।

তিনি দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। তার হার্টে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। কিডনির সমস্যাও আছে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হয় তাকে। রোববার হাসপাতালে আনার পর তার মারাত্মক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে। সুবীর নন্দীর মেয়ে ফাল্গুনী বলেন, শুক্রবার একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মৌলভীবাজার গিয়েছিলেন তারা। অনুষ্ঠান শেষ করে রোববার বাবা-মাকে নিয়ে ট্রেনে ঢাকায় ফিরছিলেন।

রাত ৯টা নাগাদ উত্তরার কাছাকাছি আসতেই হঠাৎ সুবীর নন্দীর শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। ভাগ্যক্রমে সেখানে একজন চিকিৎসক ছিলেন। তার পরামর্শেই বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। ফাল্গুনী আরো বলেন, আমার বাবা এখন লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। তার জন্য বেশি বেশি প্রার্থনা দরকার। দেশবাসীর কাছে বাবার জন্য আমি প্রার্থনা চাই। ৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন সুবীর নন্দী। ১৯৫৩ সালের ১৯শে নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার নন্দীপাড়ায় তার জন্ম। বাবার চাকরি সূত্রে শৈশব কেটেছে চা বাগানে। পরিণত বয়সে গানের পাশাপাশি চাকরি করেছেন ব্যাংকে। প্রাইমারিতে পড়ার সময় মা পুতুল রানীর কাছে সংগীতের হাতেখড়ির পর ওস্তাদ বাবর আলী খানের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নেন সুবীর নন্দী। সিলেট বেতারে তিনি প্রথম গান করেন ১৯৬৭ সালে।

এরপর ঢাকা রেডিওতে সুযোগ পান ১৯৭০ সালে। রেডিওতে তার প্রথম গান ‘যদি কেউ ধূপ জ্বেলে দেয়’। বেতার থেকে টেলিভিশন, তারপর চলচ্চিত্রে গেয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। ১৯৭৬ সালে আব্দুস সামাদ পরিচালিত ‘সূর্যগ্রহণ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্লেব্যাকে আসেন সুবীর নন্দী। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পায় আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘অশিক্ষিত’ সিনেমাটি। সেই সিনেমায় সাবিনা ইয়াসমিন আর সুবীর নন্দীর কণ্ঠে ‘মাস্টার সাব আমি নাম দস্তখত শিখতে চাই’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ধীরে ধীরে সুবীর নন্দীর কণ্ঠের গান ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মুখে মুখে। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। প্লে-ব্যাক করে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এই শিল্পী। চারবার পেয়েছেন বাচসাস পুরস্কার। তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘দিন যায় কথা থাকে’, আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘আশা ছিল মনে মনে’, ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, ‘বন্ধু তোর বারাত নিয়া’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘কতো যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘পাহাড়ের কান্না দেখে’, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’, ‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’, একটা ছিল সোনার কন্যা’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’সহ অসংখ্য গান। তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘সুবীর নন্দীর গান’ বাজারে আসে ১৯৮১ সালে। ‘প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘ভালোবাসা কখনো মরে না’, ‘সুরের ভুবনে’, ‘গানের সুরে আমায় পাবে’ ছাড়াও ‘প্রণামাঞ্জলী’ নামে একটি ভক্তিমূলক গানের অ্যালবাম রয়েছে তার।

শেরপুর টুডে ডেস্ক

Sherpur Today (sherpurtoday.com) is a Bangla 24 hours online news portal in Bangladesh. Started publishing in 26 March 2019 under editorship of Md. Mazharul Islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *