ভূরুঙ্গামারীতে ইরি-বোরো বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

মোঃ মনিরুজ্জামান,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ ভালো  ফসল পেতে হলে ভালো মানের বীজতলা বা চারা গাছের বিকল্প নেই। তাই আসন্ন ইরি- বোরো চাষের জন্য বীজতলা তৈরী করে পরিচর্যা শুরু করেন কুড়িগ্রাম জেলার শস্য ভান্ডার খ্যাত ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের কৃষকরা।  চারা গাছ একটু বড় হতে না হতেই  ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে কৃষকদের বোরো বীজতলা। টানা কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বোরো বীজতলার গাছ গুলো সবুজ ও সতেজ না হয়ে হলুদ আর ফ্যাকাসে রং ধারন করেছে। শীতের তীব্রতায় বীজতলার অনেক চারা গাছ মরে যেতে শুরু করে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বীজতলা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হওয়ায় আসন্ন ইরি-বোরো আবাদ নিয়ে  শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ভূরুঙ্গামারীর  কৃষকরা।

উপজেলার পশ্চিম ছাট গোপাল পুর গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, নিজে ৮ বিঘা(৩২ শতকে এক বিঘা)  জমিতে ইরি-বোরো ধান রোপন করতে উন্নত জাতের ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ জাতের ৭ কেজি বীজের দুটি বীজতলা তৈরী করি।  চারা গাছগুলো বেশ পুষ্ট হলেও গত দুই সপ্তাহ ধরে টানা শীতে বীজতলা হলুদ হয়ে ফ্যাকাসে রং ধারন করেছে। অনেক চারাগাছ শীতের প্রকোপে মারা গেছে। ফলে ৮ বিঘা জমির জন্য চারা গাছ সংকট দেখা দিতে পারে। বীজতলার এ অবস্থায় করনীয় বিষয়ে পরামর্শ নিতে কৃষি বিভাগের কোনো কর্মীর দেখা পাওয়া যায় না। তাই বোরো আবাদ নিয়ে অনেকটাই শঙ্কিত আমারমত আরো কৃষক ।  একই গ্রামের কৃষক সিরাজুল, আবুতাহের,  আইয়ুব আলী ও  আনছার জানান, তারা বোরো চাষাবাদের জন্য বীজতলা তৈরী করেছেন। কিন্তু প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে তাদের সেই বীজতলা প্রায় নষ্ট হতে বসেছে। ৬ দিন পর গত সোমবার সূর্যের দেখা মিলেছে।  কিন্তু গত কাল থেকে আবারও কুয়াশার ও কনকনে ঠান্ডা শীতের কারণে বীজ তলা থেকে আশানুরুপ চারা পাবেন না বলে আশঙ্কা তাদের । যে টুকু নষ্ট হয়েছে  তার  বাকীটুকু নষ্ট হলে চারাগাছের অভাবে ইরি-বোরো চাষাবাদ ব্যাহত হতে পারে বলেও শঙ্কিত তারা।

একই অবস্থা উপজেলার ১০টি ইউনায়নের প্রায়  সব বোরো চাষীর। এভাবে বীজতলা নষ্ট হলে বোরো চাষাবাদে চারা গাছের সংকট দেখা দিতে পারে। ফলে বোরো চাষাবাদে ক্ষতির মুখে পড়বে কৃষকরা।  অপরদিকে, কৃষি বিভাগের মাঠ-কর্মীদের মাঠে না যাওয়ার অভিযোগও কৃষকদের। অফিসে বসে প্রতিবেদন না করে মাঠে গিয়ে কৃষকদের খোঁজ নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি আহ্বান জানান কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে আসন্ন  মৌসুমে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ১৪৯৯২ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এ পর্যন্ত ৫৪৩ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি  কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান  বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বীজতলায় কিছুটা সমস্যা হতে পারে। দুই চারদিন রোদ পেলে বোরো বীজতলায় বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না। শীত বা কুয়াশা থেকে বোরো বীজতলা রক্ষার জন্য সাদা পলিথিন দিয়ে  বীজতলা ঢেকে রাখা ও  বীজতলার মাঝ খানে ড্রেন করে তাতে সেচ দিয়ে চারাগাছের পাতা ও ডগা থেকে কুয়াশার ঠান্ডা পানি ফেলে দিতে চাষীদের প্রতি পরামর্শ প্রদান করেন তিনি। কৃষকের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন আমাদের জনবল সংকট তাই মাঠে সঠিক সময়ে কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা।

Sherpur Today

Sherpur Today (sherpurtoday.com) is a Bangla 24 hours online news portal in Bangladesh. Started publishing in 26 March 2019 under editorship of Md. Mazharul Islam

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *