শেরপুর সদর হাসপাতালের বাথরুম থেকে রোগীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

⚫শেরপুর টুডে ডেস্কঃ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের পুরুষ সার্জিক্যাল ওয়ার্ডের বাথরুমের ভেন্টিলেটরের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ৩০ অক্টোবর বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আব্দুল মালেক (৬৫) নামে এক রোগীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে শেরপুর সদর থানার পুলিশ।

ছয় সন্তানের জনক আব্দুল মালেক সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের ছোটঝাউয়েরচর এলাকার মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় আইসক্রিম বিক্রেতা ছিলেন বলে তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম জানিয়েছেন। মূত্রথলির সমস্যা নিয়ে (প্রোস্টেট গ্ল্যান্ড বড় হয়ে যাওয়ায়) গত ২৬ অক্টোবর থেকে আব্দুল মালেক শেরপুর জেলার সদর হাসপাতালের পুরুষ সার্জিক্যাল ওয়ার্ডের বি-১৩ নম্বর বেডে ভর্তি ছিলেন। হাসপাতালের রেকর্ড অনুসারে তার ভর্তি নিবন্ধন নম্বর ৩৭৩৮৭/১৪

হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে তার সাথেই ছিলেন স্ত্রী ফিরোজা বেগম। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যা থেকে তার স্বামী আব্দুল মালেক চারবার বাথরুমে যান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাথরুমে যাওয়ার পর বেশ কিছুক্ষণ চলে গেলেও আব্দুল মালেক ফিরে না আসায় তাকে বাথরুমে খুঁজতে যান। সে সময় ভেন্টিলেটরের লোহার রডের সাথে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়। পরে হাসপাতালের অন্য রোগীর লোকজন ও নার্সরা তখন সেখানে দৌড়ে যান।

খবর পেয়ে জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলের ওই বাথরুমে ছুটে যান। পরে সদর থানার খবর দিলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ  বিল্লাল হোসেন এবং সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিবির (ওসি) মোঃ মোখলেছুর রহমান, ডিআইও-১ মোঃ আবুল বাশার মিয়াসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. খায়রুল কবীর সুমন জানান, মৃত ব্যক্তির চিকিৎসার কাগজপত্র দেখে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানারোগে আক্রান্ত। গত ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে প্রস্রাব আটকে যাওয়াসহ মূত্রথলির জটিলতা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তার অবস্থা এখন ভালোর দিকে ছিল। এর আগে একবার তার আলসারের অপারেশনও হয়েছিল। হাসপাতালের বাথরুমে ফাঁস লাগিয়ে রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরে ছুটে আসি। পুলিশকে জানানোর পর তারা এসে লাশ উদ্ধার করে।

এদিকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স শিউলি বেগম বলেন, আমি তখন রোগীদের রাতের শিফটের ওষুধ দেয়ার জন্য রাউন্ডে বারান্দায় রোগীদের কাছে ছিলাম। হঠাৎ রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওয়ার্ডের ভেতর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে বারান্দা থেকে ওয়ার্ডের ভেতর এসে বাথরুমে এক রোগীর গলায় ফাঁস লাগানোর কথা জানতে পারি। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই।

শেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জেলা হাসপাতালের বাথরুম থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে রোগভোগের কারণে মানসিক যন্ত্রণায় তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *