সৎ মায়ের নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার উত্তর সীমান্তের কবিরাজপুর ইউপির পান্থাপাড়া গ্রামের সেতু নামে এক শিশুর ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন করা হয়েছে ।

এ ঘটনায় রোববার সকালে সেতুর সৎ মা সাবিনা বেগম ও ভাই ছাব্বিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

সেতু ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তার সৎ মায়ের হাতে প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে সে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তার বাবা রিয়াজ শিকদার এসবের কিছু লক্ষ্য রাখেন না।

আট বছর আগে আমার মা (রেহানা বেগম) মারা যায়। বাবা সৎ মা (সাবিনা বেগম) কে বিয়ের পর থেকে আমার ওপর নেমে আসে নির্যাতনের এ খড়গ। সৎ ভাই ছাব্বির ও সৎ নানীর প্ররোচনায় সৎ মা গরম খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেয়। আমি যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও তাদের মায়া হয় না। নির্যাতনের সময় সৎ ভাই আমার হাত চেপে ধরে। আমাকে চিকিৎসা পর্যন্ত দেয়নি। আমি ভয়ে কাউকেই কিছু বলতে পারি না । বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলে কোথায় যাবো? বলছিল নির্যাতনের শিকার সেতু।

গত ২৪ মার্চ সামান্য কারণে শরীরের ঘাড়, কনুই, হাতসহ বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দিয়ে দগ্ধ করে দেন তার সৎ মা। ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এবং মাথার উপরে ছাদ হারানোর ভয়ে এ নির্যাতনের কথা কাউকেই বলে নি। এমনকি  নিজের বাবাকেও । দগদগে ঘা নিয়ে যখন ঘর থেকে বের হলে তাতে চোখ পড়ে এলাকাবাসীর। শিশুটির সারা শরীরের খুন্তির ছেঁকা দেখে আঁতকে উঠেন সবাই। প্রতিবাদ করেন এলাকাবাসী শিশু ও স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা।

এলাকার মানবাধিকার কর্মী মমতা খাতুন রোববার সকালে মেয়েটিকে উদ্ধার করে কালামৃধা বাজারে নিয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে  চিকিৎসা দেন।

রাজৈর থানার এসআই খান মো. জোবায়ের বলেন, আমি  খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে রাজৈর উপজেলা সাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ভর্তি করি এবং সৎ ভাই ছাব্বির ও সৎ মা সাবিনাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। রাজৈর থানার ওসি বলেন, বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউএনও সোহানা নাসরিন বলেন, মেয়েটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজৈর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিশুটির পুনর্বাসনের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *