বিক্ষোভের মুখে বাগদাদ থেকে কারফিউ তুলে নিলো ইরাক সরকার

ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে রাজধানী বাগদাদ থেকে কারফিউ তুলে নিয়েছে ইরাক সরকার। বেকারত্ব ও দুর্নীতি নির্মূল এবং সরকারি চাকরির দাবিতে চারদিন ধরে চলা বিক্ষোভে অন্তত ৭২ জন নিহত হয়েছেন দেশটিতে। অবশেষে চাপের মুখে শনিবার বাগদাদ থেকে সারাদিনব্যাপী চলা কারফিউ তুলে নিয়েছে সরকার।

রাজধানী জুড়ে আজ যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। চারদিন ধরে উত্তাল গুরুত্ত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। বড় বড় কংক্রিট-পাথরের ব্লকগুলো সরিয়ে নিচ্ছে পুলিশ।

ইরাকের মানবাধিকার হাই-কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চারদিন ধরে চলা বিক্ষোভে শত শত বিক্ষোভকারী গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের অধিকাংশকেই ইতিমধ্যে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বিক্ষোভকারীদের ভেতর বেশ কয়েকজন বন্দুকধারী লুকিয়ে ছিল। বিক্ষোভকালে তারা পুলিশের দিকে গুলি ছুঁড়েছে। এতে অনেকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

সরকারি চাকরিতে বৈষম্য, আমলাদের দায়িত্বে অবহেলা ও সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার রাজধানী বাগদাদের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। দুই দিন ধরে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহত হন। আহত হন দুইশোরও বেশি মানুষ। এরপরই তৃতীয় দিনে এসে বাগদাদে কারফিউ জারি করা হয় প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল মাহদির নির্দেশে। এতে সাধারণ মানুষ আরও ফুঁসে ওঠে। দ্রুতই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ছাড়িয়ে ইরাকের অন্যান্য শহরে।

শেষ দুইদিনে মারা যায় আগের দুইদিনের তুলনায় তিনগুনেরও বেশি মানুষ। চারদিনে সর্বোমোট ৭২ জন বিক্ষোভকারীর নিহতের খবর নিশ্চিত করে নিরাপত্তা বাহিনী। আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও ব্যাপক তোপের মুখে পড়ে যায় মাহদি সরকার। অবশেষে পঞ্চম দিনে এসে রাজধানী বাগদাদ থেকে কারফিউ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইরাক সরকার।

প্রভাবশালী ইরাকি ধর্মগুরু মোক্তাদা আল-সাদর শুক্রবার সরকারের পদত্যাগ দাবি করে জরুরীভিত্তিতে নির্বাচনের আহ্বান জানান। সংসদের একটি প্রভাবশালী গ্রুপও মোক্তাদার সাথে ঐকমত্য পোষণ করে।

শনিবার ইরাকের সংসদে বিপ্লবীদের দাবি পর্যালোচনার জন্য আলোচনার ডাক দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মাহদি। মোক্তাদার ব্লক জানিয়েছে, তারা ওই সংসদ অধিবেশন বয়কট করবেন। সূত্র : রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *