মোঃ মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মামার শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে এসে ফাহিমা (১২) নামের এক কিশোরীর রহস্য জনক মৃত্যু হয়েছে। ফাহিমা বাইশমারী ফাজিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। জানা গেছে, উপজেলার জয়মনিরহাট ইউনিয়নের বাউশমারী গ্রামের ফরহাদ আলীর মেয়ে ফাহিমা এক সপ্তাহ আগে মামীর সাথে মামার শ্বশুর গ্রাম পুলিশ সদস্য জহির উদ্দিনের বাড়ি সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারীয়া গ্রামে বেড়াতে আসে। ফাহিমার মামী জানান, বুধবার দুপুরে ফাহিমা ঘরে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখে।
অনেক ডাকাডাকির পরেও দরজা না খোলায় লাথি দিয়ে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে ফাহিমাকে গলায় ওড়না প্যাচানো অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখতে পান। তক্ষুণি ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানো হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। ফাহিমার পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাতে ফাহিমা অসুস্থ জানিয়ে মোবাইলে তাঁর বাবাকে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে ফাহিমার বাবা, মা মর্জিনা ও মামা হাফিজুর রহমান সহ অন্যেরা এসে তাকে বিছানায় শোয়া মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। সে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে মরদেহের সুরৎহাল রিপোর্ট তৈরী করে এবং বৃহস্পতিবার লাশ ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করে। ফাহিমার মামা হাফিজুর রহমান বলেন, আত্মহত্যার প্রশ্নই আসেনা, তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। অপর দিকে ঘটনা স্থলের আশপাশের বাসিন্দারা জানায়, তারা বিভিন্ন সময় ফাহিমাকে মোবাইল নিয়ে বাড়ির আনাচেকানাচে কথা বলতে দেখেছে। তাদের ধারণা হৃদয় ঘটিত কোন কারণ থাকলেও থাকতে পারে। এরই প্রেক্ষিতে অভিমানে ফাহিমা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে।
ওসি (তদন্ত) জাহেদুল ইসলাম জানান, কিশোরীর শরীরের আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইন-চার্জ ইমতিয়াজ কবির জানান, এ ব্যাপারে একটি ইউডি মামলা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ঘটনাটি উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে এমনটাই আশা করছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *