কুড়িগ্রামে বাস কাউন্টারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ৮ পরিবহনকে লাখ টাকা জরিমানা

মোঃমনিরুজ্জামান কুড়িগ্রাম সংবাদদাতাঃ সাত দিন আগে ঈদ শেষ হলেও কুড়িগ্রামে যাত্রীদের কাছ থেকে চলছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে বাস পরিবহন কর্তৃপক্ষ। বাস মালিক-শ্রমিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছে ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা।

গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে যাত্রীদের কাছ থেকে মোটা অংকের পকেট কাটার উৎসব। জানাগেছে, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলা  থেকে ঢাকায় যেতে দূর পাল্লার বাসের প্রতিটি  টিকিটের মূল্য ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা কিন্তু ঈদ উপলক্ষ্যে সেই ভাড়া বাড়িয়ে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা নিচ্ছে পরিবহন কর্তৃপক্ষ। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত দু’দিনে দুর পাল্লার ৮টি বাসে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৯৬ হাজার ৩শ’ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রশাসনের এধরণের পদক্ষেপে খুশি যাত্রীসহ উৎসুখ জনতা।এমন অভিযান জেলার সবকটি উপজেলায় পরিচালনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোড় দাবি জানান ভূক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা।

গতকাল সন্ধ্যায় কুড়িগ্রাম শহরের জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট ও ঘোষপাড়া এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিট্রেট ও সহকারি কমিশনার সুদীপ্ত কুমার সিংহ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল হাসান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশ, বিআরটিএ পরিদর্শক মাহবুবার রহমান, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট আহসান হাবীব নীলু, স্যানিটারী ইন্সপেক্টর জহুরুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল হাসান জানান, দূর পাল্লার যাত্রীবাহি বাসে অভিযান চালিয়ে দেখা যায় টিকিট প্রতি অতিরিক্ত ৫শ’ থেকে ৭শ টাকা আদায় করা হয়েছে। এজন্য ৮টি বাসে জরিমানা আদায় করা হয় ৯৫ হাজার টাকা এবং এই বাসের দুই ড্রাইভারকে ত্রুটিপূর্ণ লাইসেন্সের কারণে আরো ১ হাজার ৩শ’ টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলা মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বকসী জানান, কুড়িগ্রাম থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড় শতাধিক দূরপাল্লার বাস যাত্রী পরিবহন করছে। ঈদ উপলক্ষে বাইরে থেকে আরও অনেক বাস যাতায়াত করছে। এসব দূরপাল্লার যাত্রীবাহি বাসে কমপক্ষে ৬০ শতাংশের রুট পারমিট নেই।

জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মজিদুল ইসলাম সরদার মোবাইল কোর্টে হাজির হয়ে এ জরিমানার ব্যাপারে আপত্তি তুলে বলেন, বাসগুলো যাত্রী বোঝাই ঢাকায় গেলেও ফিরতি পথে আসতে হয় যাত্রীশূন্যভাবে। এ কারণে লোকসান ঠেকাতে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

দূরপাল্লার বাসের যাত্রী জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি একেএম সামিউল হক নান্টু জানান, এনা পরিবহনে এসি বাসে টিকিট মূল্য ১ হাজার ৪শ’ টাকা হলেও তার কাছ থেকে ২ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। সিনিয়র তথ্য অফিসার নুরন্নবী খন্দকার বাবলা একই অভিযোগ করে বলেন, তার দুটি টিকেটে অতিরিক্ত ১ হাজার ২শ’ টাকা আদায় করা হয়।

হক স্পেশাল কাউন্টারের ম্যানেজার হেলাল জানান, ফিরতি পথে যাত্রী কম হওয়ায় প্রতিটি টিকিটে অতিরিক্ত তিনশ টাকা নেয়া হচ্ছে।

মোবাইল কোর্টের নির্বাহী ম্যাজিট্রেট ও সহকারি কমিশনার সুদীপ্ত কুমার সিংহ জানান, যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মোছা: সুলতানা পারভীন’র নির্দেশে গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় শহরের জেলা পরিষদ মার্কেট ও ঘোষপাড়ায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও বিভিন্ন কাউন্টারে-কাউন্টারে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার জন্য সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *