‘কাশ্মীর ইস্যু’তে ভারতকে পিছু হটতে বলল এইচআরডব্লিউ

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারে ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল ও উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
সোমবার (১২ আগস্ট) প্রকাশিত এক নিবন্ধে এইচআরডব্লিউয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি কাশ্মীরের সাম্প্রতিক অবস্থা নিয়ে সংগঠনটির অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘এক সপ্তাহ হয়ে গেল ভারতীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছে। কাশ্মীর এখনো নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বন্দী, তাদের প্রধান নেতারা কারাবন্দী হয়ে আছেন। ফোনের নেটওয়ার্ক সীমিত করে দেওয়া হয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ঈদের দিন কাশ্মীরিরা তাঁদের প্রধান মসজিদে নামাজও পড়তে পারেননি।’
মীনাক্ষী বলেন, ‘মানুষ তাঁদের প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করতে পারেনি, রোগীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পায়নি, এমন কথাও শোনা গেছে। প্রতিবাদরত সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়েছে, এমন খবরও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। যদিও ভারত সরকার এসব অস্বীকার করেছে। এ ছাড়া কিছু অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, কিছু বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।’
ভারতকে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মীনাক্ষী বলেছেন, আরও প্রাণহানি রক্ষার স্বার্থেই ভারত সরকারকে একটু নমনীয় হওয়া উচিত।
দমনমূলক পদক্ষেপ বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়ে মীনাক্ষী লিখেছেন, ‘ভারত সরকারের উচিত বিভিন্ন দমনমূলক আইন রদ করা, চেকপয়েন্টে কাশ্মীরিদের সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণ বন্ধ করা এবং যাঁরা কাশ্মীর থেকে উৎখাত হয়েছেন, তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা। বিশেষ করে ১৯৯০-এ মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীর থেকে যেসব হিন্দু উৎখাত হয়েছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনা।’
রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়া উচিত, যোগাযোগের অচলাবস্থা দূর করা উচিত, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা উচিত…। কাশ্মীরের পরবর্তী প্রজন্মকে যেন হিংসার আগুনে না পুড়তে হয়, সে কারণে ভারত সরকারের এখনই পিছু হটা উচিত।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *