২২শে আগষ্ট ২০১৩ সাল ছাত্রলীগের তুহিনের রক্তে রঞ্জিত রাবি

আজ ভয়াল ২২শে আগষ্ট, ২০১৩; রক্তাক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের তৎকালিন সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল হোসেন তুহিনের ওপর রাতের (১০টা) আধাঁরে শিবির ক্যাডাররা চোরাগোপ্তা হামলা করে।

একাধিক সূত্রে যানা যায় সেদিন সৈয়দ আমীর আলী হল ছাত্রলীগ কতৃক আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা শেষে আনুমানিক রাত ১০ টার দিকে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তুহিন ৪/৫ জন নেতাকর্মী সহ হেটে মাদারবক্স হলের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা শিবির ক্যাডাররা অতর্কিত হামলা চালায় তুহিনের ওপর শুরু হয় গুলিবর্ষণ ও ককটেল চার্জ গোটা বিশ্ববিদ্যালয় কেঁপে উঠে দ্বিকবিদিক ছোটাছুটি করতে থাকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই ভয়াল ত্রাসের মধ্যেই চারদিক থেকে ঘিরে ধরে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তুহিনের ডান হাত ডান পায়ের রগ কেটে ফেলে, কেটে ফেলে হাতের চারটি আঙ্গুল, মাথায় চাইনিজ কুরাল দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত। নিশ্চিত মৃত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। তুহিনের সাথে থাকা ছাত্রলীগ নেতা শাওনও গুলিবিদ্ধ হয়।

সেদিন গভীর রাত অবধি ক্যাম্পাসে ও হলে হলে চলতে থাকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের তুমুল বিক্ষোভ বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃষ্টি হয় যুদ্ধাবস্থা।

সেদিন রাত থেকেই তুহিনের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। সারাদেশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

তুহিন ও শাওন কে মরণাপন্ন অবস্থায় প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল, তারপর ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেয়া হয়।
নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসে মৃত্যুন্জয়ী ছাত্রনেতা তুহিন। শাওনের হাতে গুলি লাগাতে সে সময়সাপেক্ষে সুস্থ হয়ে ওঠে।

আলোচিত এই হামলার খবর পরদিন সারাদেশের প্রধান প্রধান দৈনিকে প্রধান শিরোনামে পরিনত হয়।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক ছাত্রলীগ নেতা তুহিনের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরবের ইতিহাসের সাথে মিশে আছে তুহিনের মত নিবেদিত ছাত্রলীগ কর্মীর নাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *