যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রামাণীত হওয়ার পরও নিপিড়ক জবি শিক্ষক হালিম বহাল

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক আবদুল হালিম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও চাকরিতে বহাল রেখেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।তবে  বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। শাস্তির মধ্যে রয়েছে পদোন্নতি পাওয়ার মেয়াদ চার বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর, চেয়ারম্যান-ডিনসহ প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব আগামী ১০ বছরের আগে পাবে না এমন শাস্তিসহ মোট চার ধরনের শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়টির ৮২তম ভার্চুয়াল সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবদুল হালিম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তার শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করেন। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে ওই বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে অধ্যাপক আবদুল হালিমকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিরস্কার করে। একই সঙ্গে দ্রুত ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন তদন্ত সেলের প্রতিবেদনের আলোকে ২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল ৭৭তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে তিরস্কার ও দুই বছরের জন্য পদোন্নতি পিছিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী ছাত্রী এমন শাস্তিতে অসন্তুষ্ট জানিয়ে উপাচার্য বরাবর চিঠি দিলে ফের উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ।

 

সর্বশেষ গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক হালিমের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এগুলো যে ধরনের অভিযোগ ও তদন্তের বিষয় তা মূলত ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন দরকার। এ ধরনের ইনভেস্টিগেশন করতে সিআইডি লাগবে। কিন্তু আমাদের যে শিক্ষক তারা তো এমন ইনভেস্টিগেশনে পারদর্শী নয়, যার কারণে একটা কনক্লুশন ড্র করা, এমন কিছু হয়নি।

তবে বিষয়টি তদন্ত করে, পারিপার্শ্বিক  বিষয় দেখে তারা বুঝতে পেরেছে যে এ ধরনের একটা ঘটনা ঘটেনি এমন বলা যাবে না, ঘটেছে। এ কারণে তার বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির বিধান করা হয়েছে। ’

 

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম অবস্থায় তাকে তো একটা শাস্তি (২ বছর পদোন্নতি পিছিয়ে দেওয়া এবং বেতন বন্ধ করা হয়) দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে এ ধরনের আরও অভিযোগ থাকায় এবং যে ছাত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে তাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল সেই ছাত্রীর আপত্তিতে পুনরায় তদন্ত কমিটি করে অভিযোগগুলো তদন্ত করা হয়েছে। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২তম সিন্ডিকেটে তার ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিদেওয়া হয়েছে। ’

ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘তাকে চার ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। প্রথমত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর থেকে প্রফেসর হতে চার বছর লাগে, কিন্তু তার ক্ষেত্রে সেটা আট বছর করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত যে দুটি মেয়ে অভিযোগ করেছিল ওই মেয়ে দুটি যেসব ক্লাসে পড়বে সেসব ক্লাসে ওই শিক্ষক ক্লাস নিতে পারবে না। তৃতীয়ত ওই শিক্ষক যেসব কোর্স পড়াবে শুধু সেসব কোর্সের পরীক্ষাই সে নিতে পারবে। এর বাইরে আর কোনো পরীক্ষা কমিটিতে থাকতে পারবে না, অন্য কোনো পরীক্ষার ডিউটিতেও থাকতে পারবে না। চতুর্থত হলো আগামী ১০ বছর প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব যেমন চেয়ারম্যান, ডিনসহ অন্যান্য প্রশাসনিক দায়িত্ব সে পাবে না। ’

উল্লেখ্য, এর আগে বিভাগেরই কয়েকজন ছাত্রীকে যৌন হয়রানি এবং বিভাগের অন্য শিক্ষকদের সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করায় ২০১৭ সালের ১০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোশারেফ হোসেনকে (রাজীব মীর) চাকরিচ্যুত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর এক বছর পর ২১ জুলাই লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।অথচ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও যৌন নিপিড়ক হালিমের বহাল দুঃখ জনক ও লজ্জার বলে মনে করছে সর্ব মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *