দক্ষিনাঞ্চলীয় শিশু ও যুব ফোরামের বার্ষিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ডিজিটাল প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত হল খুলনা ও বরিশাল বিভাগের শিশু ও যুব ফোরামের বার্ষিক সভা। গতকাল (২৭ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণাঞ্চলের ২৫০ জন শিশু ও যুব প্রতিনিধি নিজ নিজ বাসা ও নিকটস্থ ওয়ার্ল্ড ভিশন অফিস থেকে অনলাইনে এই সভায় অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের রিয়েল লাইফ হিরো হিসাবেস্বীকৃতি প্রাপ্ত কিশোরী আঁখি সহ জাতীয় শিশু ও যুবফোরামের নেতা-নেত্রীরা বক্তব্য রাখেন।

খুলনা ও বরিশাল বিভাগেওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের পরিচর্যায়মোট ২৯০ টি শিশু ফোরাম ও ৬টি যুব ফোরামশিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্য বিবাহ নিরসন ও শিশুশ্রম বন্ধ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারিকালে এসমস্ত শিশু ও যুবফোরাম কোভিড-১৯ বিষয়ে জনগণকেসচেতন করার জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। বরিশাল যুব ফোরামের সদস্য সোহানুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় শিশু ও যুবপ্রতিনিধিদের উদ্দ্যেশে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র ডাইরেক্টর অপারেশন এন্ড পোগ্রাম কোয়ালিটি চন্দন জেড গমেজ। তিনি শিশু ও যুবদের কাজের প্রশংসা করেন এবং স্থানীয় সরকারের সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করার জন্য উঃৎসাহ দেন।

এছাড়া বক্তব্য দেন সাউদার্ন বাংলাদেশ রিজিওনাল ফিল্ড ডাইরেক্টর লিমা হান্না দারিং, এ্যাডভোকেসি ইন্টারিম ডেপুটি ডাইরেক্টর রানা দিপঙ্কর মজুম্দার প্রমুখ, সাউদার্ন বাংলাদেশ রিজওনের রিজওনাল ফিল্ড ডিরেক্টর লিমা হন্না দারিং, রিজিওনাল এ্যাডভোকেনি এন্ড চাইল্ড প্রেটেকশান কোর্ডিনেটর সুরভী বিশ্বাস , ন্যাশনাল চাইল্ড প্রটেকশান কোর্ডিনেটরস্ট্রালা রুপা মল্লিক, ন্যাশনাল চাইল্ড প্রটেকশান কোর্ডিনেটর, ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন কোর্ডিনেটর সন্জয় মন্ডল, রিজিওনাল এ্যাডভোকেসি এন্ড চাইল্ড প্রেটেকশান কোর্ডিনেটর (এন বি আর) জামাল উদ্দীন প্রমুখ।

এছাড়া শিশু ও যুবদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মিমিয়া আক্তার, অপুর্ব সরকার, দোলা আক্তার, আবু সুফিয়ান শেখ, নিশাত আরা মিম, লুকমান হেকিম ইমন, মাহমুদুল হাসান সহ অন্যরা। শিশু ও যুবরা তাদের যেসব অর্জন তুলে ধরেন সেগুলো হচ্ছে,শিশু ফোরামের সদস্য আঁখি এ পর্যন্ত ৮০০ মাস্ক বানিয়ে কম দামে বিক্রি করেছে এবং যারা দরিদ্র তাদের বিনামুল্যে বিতরণ করেছে। সে ওয়ার্ল্ড ভিশনের হিডেন হিরো এবং জাতিসংঘ তাকে রিয়েল লাইফ হিরো স্বীকৃতি দিয়েছে।যুব ফোরামের সদস্য হিডেন হিরো রাহুল করোনাকালীন সময় অনলাইন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে জনগণকে কভিড ১৯ সচেতন করেছে।

বরিশাল যুব ফোরাম সচেতনতামুলক লিফলেট বিতরণ করেছে ১০০০ জনের মাঝে। এবং নিজেদের উদ্যোগে রাতের খাদ্য সহায়তা দিয়েছি ৩৫০ জনকে, ইফতারি দিয়েছি ২০০ জনকে এবং বাজার করে দেওয়া হয়েছে ১৫ জনকে। শিশুর মানসিক যত্নে শিশু ও পিতামাতার করণীয় সংক্রান্ত বার্তা ফেইসবুক এর মাধ্যমে প্রচার করে ৩০০০ মানুষকে সচেতন করেছে। খুলনা যুব ফোরাম খুলনা সিটি মেয়রের সাথে ঈদের আগে একযোগে (ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগিতায়) সপ্তাহর্ব্যিাপী মাইকিং এর মাধ্যমে খুলনা সিটির জনগণকে কোভিড ১৯ সম্পর্কে সচেতন করেছে। উল্লেখ্য যে খুলনা সিটিতে ৬ লক্ষের ও বেশি লোক বাস করেন এবং ঈদের সময় এসংখ্যা আর ও বেশি ছিল।

বরিশাল যুব ও শিশু ফোরাম শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে মানববন্ধন করেছে এবং জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করেছে এবং অনেক মিডিয়া এটা আর ও অধিক প্রচার সহযোগিতা করেছে। শিশু ও যুবদের যৌথ উদ্যোগে ২৫ টি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে বাজেট পিটিশান দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় সরকার শিশুদের জন্য ১৭ কোটি ২৯ লাখ ৬৫ হাজার তিনশত আশি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন(২০২০-২০২১অর্থবছর) । এছাডা সুপার সাইক্লোন আম্ফানের প্রস্তুতিস্বরুপ ভিডিওবার্তার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করেছে।

শিশু ও যুবদের মনোজ্ঞ সাংস্কুতিক পরিবেশনা ও যুব ফেরামের সভাপতি নিশাত আরা মিম এর বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালার সমাপনী হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *