থানার ভেতর বোমা বিস্ফোরণ, সামনে আসছে অনেক প্রশ্ন

পল্লবী থানার ভেতরে বোমা বিস্ফোরণের পর আবারও সামনে আসছে বিভিন্ন প্রশ্ন। এর পেছনে মদদদাতা কারা বা এমন নতুন কৌশলে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে জঙ্গিরা ফের সক্রিয় হচ্ছে কিনা, উঠছে সে প্রশ্নও। বিশ্লেষকরা বলছেন, পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সাধারণ অপরাধীরা এ ঘটনা ঘটাতে পারে না। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আরও বেশি কৌশলী হওয়ার পরামর্শ তাদের ।

বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে থানায় তিন আসামিকে আনার পর তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় ওজন মাপার যন্ত্র। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে বোমার কথা। এরপরও নড়াচড়ার এক পর্যায়ে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। প্রশ্ন ওঠে আসামিরা বলার পরও পুলিশ কেন সতর্ক হলো না?

দু’দিন আগে পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে পাঠানো এক চিঠিতে সতর্ক করা হয় ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী কেউ হয়তো নাশকতার পরিকল্পনা করছে। পল্লবী থানার আসামিদের বয়সও এর সঙ্গে মিলে যায়। এ অবস্থায় থানার ভেতরে ওজন মাপা যন্ত্রের মধ্যে থাকা বোমার বিস্ফোরণ নতুন করে ভাবাচ্ছে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল আব্দুর রশিদ বলেন, জঙ্গিরা কি ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে কিছু করছে কিনা এবং তাদের নতুন কোনো পৃষ্ঠপোষক এসেছে কিনা; এগুলো খতিয়ে দেখতে হবে।

সাধারণ কোন অপরাধী নয় বরং এর পেছনে বোমা তৈরিতে পারদর্শী কেউ থাকতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশ সদস্যদের আরও বেশী পেশাদার ও পাল্টা কৌশল হিসেবে একধাপ এগিয়ে থাকতে হবে সন্ত্রাসীদের থেকে।

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক শহীদুল হক বলেন, পল্লবী থানা হয়তো ভাবেনি এখানে বোম থাকতে পারে। জঙ্গিরা কি কৌশল নেয়, এবং কি কি কৌশল নিতে পারে- এটা পুলিশ সদস্যদের ধারণা নিতে হবে এবং তাদেরকে আরও কৌশলী হতে হবে।

এর আগে, বিচারককে উদ্দেশ্য করে বই বোমা ছুঁড়ে মারা বা টিফিন ক্যারিয়ারে করে বোমা ছুঁড়ে মারার ঘটনায় সরাসরি জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা থাকলেও, পুলিশের দাবি এবারের ঘটনায় জঙ্গি নয়, জড়িত সাধারণ সন্ত্রাসীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *