চকরিয়ায় বন্দুকযুদ্ধে ৩ মাদক কারবারি নিহত, ওসিসহ ৪ পুলিশ আহত

ওসমান আল হুমাম, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আগামী ১৬ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলাকে মাদকমুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ সিদ্ধান্তের আলোকে জেলার সবক’টি থানার আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মাদকের বিরোধ্যে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। এবার কক্সবাজার, চকরিয়া উপজেলায় ইয়াবার একটি বড় চালান হাতবদলের সময় তিনজন অজ্ঞাত মাদক কারবারি পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত।

কক্সবাজারের চকরিয়ার বরইতলীর গর্জন বাগানের জঙ্গলে ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছেন। এ সময় দুই ওসিসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলীর বানিয়ারছড়ার পাহাড়ি ঢালার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পশ্চিম পাশে গর্জন বাগানে পুলিশের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন নিহত হয়।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বন্দুকযুদ্ধ শেষে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪৪ হাজার পিস ইয়াবা, দুটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ৭ রাউন্ড গুলি ও ১৫ রাউন্ড ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে থানার ওসিসহ চার পুলিশ সদস্য।

চকরিয়ার হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আমিনুল ইসলাম জানান, নিহতরা সবাই তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে পুলিশ বানিয়ারছড়া এলাকা থেকে ইয়াবাসহ ১ জন পুরুষ ও ১ জন নারীকে আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারেন, বরইতলীর গর্জন বাগানে  ইয়াবার একটি বড় চালান ভাগাভাগি হচ্ছে। এ খবর নিশ্চিত হওয়ার পরপরই রাত আড়াইটার দিকে চকরিয়া থানার ওসি মু. হাবিবুর রহমান অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বরইতলীর বানিয়ারছড়ার উত্তর পাশের পাহাড়ি ঢালায় গর্জন বাগান এলাকায় পৌঁছেন।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইয়াবা কারবারিরা গুলি ছুড়ে। এসময় পুলিশও অাত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছুড়ে। প্রায় ঘণ্টা খানেক বন্দুক যুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৩ জন ইয়াবা কারবারির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে। তবে তাদের কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এতে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান, হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি আমিনুল ইসলাম, পুলিশ কনস্টেবল সাজ্জাদ ও সবুজ আহত হয়। তাদেরকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ৩ জন ইয়াবা কারবারির লাশ ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *