আত্মীয়তার বেড়াজালে আটকে আছে শ্রীবরদীর ভটপুর এইচ ইউ উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন

এজেএম আহছানুজ্জামান ফিরোজ, শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি: আত্মীয়তার বেড়াজালে আটকে আছে শেরপুরের শ্রীবরদীর ভটপুর এইচ ইউ উচ্চ বিদ্যালয়। ক্রমেই ভেঙে পড়ছে শিক্ষা কার্যক্রমসহ অবকাঠামো। বৃটিশ আমলের আলোচিত এই বিদ্যালয়টি নিয়ে সচেতন মানুষের মাঝে ওঠছে নানা প্রশ্ন। কেউ কেউ বলছেন একই ব্যাক্তি প্রায় ২০ বছর যাবত রয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে। প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজন ওই বিদ্যালয়ের সভাপতির নিকট আত্মীয়। এতে ব্যহত হচ্ছে উন্নয়ন ও শিক্ষা কার্যক্রম।

জানাযায়, ভটপুর এইচ ইউ উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯৪৪ সালে। এই বিদ্যালয়ে ভূমির পরিমাণ প্রায় ৩ একর। এর মধ্যে প্রায় এক একর ভূমিতে বিদ্যালয় ভবনসহ রয়েছে বিশাল একটি খেলার মাঠ। বৃটিশ আমলের স্থাপিত বিদ্যালয়টি এক সময় এলাকায় ছিল ব্যাপক নাম ডাক। ছাত্রছাত্রী ছিল ভরপুর। পড়ালেখার মান ছিল খুবই ভাল। ওই বিদ্যালয় মাঠে প্রায় সারা বছর খেলাধূলায় মেতে থাকতো শিক্ষার্থী সহ স্থানীয় শিশু কিশোররা। বিদ্যালয় মাঠকে কেন্দ্র করে চলতো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা কার্যক্রম। কালের বিবর্তনে হারিয়েছে বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য। এলাকার সচেতন মানুষের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম দীর্ঘ ২০ বছর যাবত দায়িত্বে থাকায় দেখা দিয়েছে নানা অনিয়ম। এর মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ ভূমি বেহাত হয়েছে। তবে ভূমি উদ্ধারে নেই কোনো তৎপরতা। দিন দিন কমছে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা। সভাপতি আব্দুল হালিমের বোনের মেয়ে তাহমিনা ইয়াসমিন প্রধান শিক্ষক, আরেক বোনের ছেলে নাজমূল হাসান রোমান সহকারি প্রধান শিক্ষক, ছোট ভাই মোকারম বিল্লাহ সহকারি লাইব্রেরিয়ানসহ বেশ কয়েকজন নিকট আত্মীয় চাকরি করছেন। সভাপতির ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা করেনা। নিয়মানুযায়ী বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনের কথা থাকলেও তা হয়না।
এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, ২০১০ সালে আমি সহকারি শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। বর্তমানে বিদ্যালয়ের দুই একর ৪৮ শতাংশ ভূমির খাজনা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে এক একর ২০ শতাংশ ভূমি বিদ্যালয় ভবন ও খেলার মাঠ। বেদখল হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ ভূমি। অবশিষ্ট ভূমি সাবেক প্রধান শিক্ষক কিভাবে, কত বছর যাবত লিজ দিয়েছেন তা আমি জানিনা। এসব নানা অনিয়ম অস্বীকার করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, বিদ্যালয়টির ভূমি নিয়ে সমস্যা আগে থেকেই। তবে এসব সমস্যা নিরসনে কমিটির সদস্য ও শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আলম তালুকদার বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন ব্যতীত আয়-ব্যায়ের হিসাব নিকাশ বিধিসম্মত নয়। তবে এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *